বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০ | রাত ২:১৯

যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় গৃহবধুকে নির্যাতন

J I
  • Update Time : শুক্রবার ২৯ নভেম্বর, ২০১৯
  • ১৬৪ Time View

রবিউল হাসান মনির , পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া বিদেশে যাওয়ার তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি তুলে সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে আটকে নির্মম ভাবে পিটিয়েছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে আহত গৃহবধূকে হাসপাতালে না নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে সালিসের কথা বলে তার পরিবারের লোকজনকে খবর দেয় গৃহবধূর শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে আহত গৃহবধূকে ইউনিয়নর পরিষদ থেকে উদ্ধার করে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। মঠবাড়িয়া উপজেলার সবুজনগর গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে গৃহবধূ মিতু আক্তার(১৯) গত দুইদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।


নির্যাতিত গৃহবধূ মিতুর মা পাখি বেগম অভিযোগ করেন, গত ছয়মাস আগে পারিবারিক
সম্মতিতে পার্শ্ববর্তী বরগুনা উপজেলার কড়ইতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসি মো. জাহাঙ্গীর আকনের ছেলে মো. জাহিদ আকনের সাথে মিতুর আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরপক্ষের সকল দাবি দাওয়া পূরণ করে কণে পক্ষ। সেই সাথে বিয়ের সময় স্বামী জাহিদ ঢাকায় চাকুরি করেন এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে এ বিয়ে করে। বিয়ের পর বেকার জাহিদ নানা ভাবে স্ত্রীকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। স্বামী জাহিদের পিতা সৌদি প্রবাসি। গত ১৫দিন আগে সে বাড়িতে আসলে মিতুর পরিবারকে দাওয়াত দিয়ে তাদের বাড়িতে নেন। এরপর দুই পরিবারের বৈঠকে মিতুর স্বামীকে বিদেশ পাঠানোর কথা ওঠে। সেখানে বিদেশ যাওয়ার জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করেন স্বামী জাহিদের পরিবার। মিতুর পরিবার এ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বাড়ি ফিরে আসেন।

এরপর থেকেই স্বামী ও পরিরারের লোকজন গৃহবধূ মিতুর ওপর নির্দয় আচরণ শুরু করে। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) জাহিদ তার স্ত্রীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্দয়ভাবে পেটায়। গত মঙ্গলবার রাতে মিতুকে দড়িদিয়ে খুঁটির সাথে বেঁধে নির্মম ভাবে মারপিট করেন জাহিদ। সাত দিনের
মধ্যে টাকা না দিলে জানে মেরে ফেলবে এমন হুমকী দেয়। এ নির্যাতনে গৃহবধুর শ্বাশড়ি কনক বেগম ও ননদ শেফালি আক্তারও মারপিটে অংশ নেয়। গৃহবধূ গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি না করে তার পরিবারের কাছে শালিসীর কথা বলে বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়ন পরিষদে আসতে খবর দেন। মিতুর পরিবারের স্বজনরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে মিতু গুরুতর আহত অবস্থায় দেখেন। স্থানীয় ইউপি
চেয়ারম্যান মিতুকে তার পরিবারের কাছে তুলে দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি পরামর্শ দেন।

পরে মঠবাড়িয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমানের সহায়তায় মিতুকে মঠবাড়িয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঠবাড়িয়া উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ ছনিয়া আক্তার বলেন, মিতুর শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি মানুষিক ও শারীরিক ভাবে অনেক অসুস্থ।

Please Share This Post in Your Social Media


More News Of This Category