রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :

টয়লেটসহ টিন বদলে খরচ কোটি টাকা

worksfare LTD
  • Update Time : ২৬ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৪৩ Time View

রাজশাহীতে পশ্চিমাঞ্চল রেল ভবনের সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলীর (এসএসএই) দফতর এবং প্রধান টেলিযোগাযোগ ও সংকেত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর দফতরের দুই টয়লেট মেরামতে খরচ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ টাকা। একটি ছোট টয়লেট মেরামতে খরচ দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ টাকা। আরেকটি টয়লেটসহ বারান্দার টিন বদলে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৩ লাখ টাকা।

দরপত্র ছাড়াই তৃতীয় শ্রেণির ঠিকাদারদের মাধ্যমে এভাবে ভৌতিক খরচ দেখিয়ে টাকা লোপাট করেছেন রেলের কর্মকর্তারা। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে পশ্চিম রেলের ফাঁস হওয়া দুর্নীতির নথিপত্রে এমন তথ্য উঠে এসেছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলে দুই থেকে আড়াই শতাধিক গায়েবি খাতে ৭০০ কোটি টাকা লোপাট হওয়ার তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাজশাহীতে পশ্চিমাঞ্চল রেল ভবনে এসএসএই দফতরের বারান্দার টিন পরিবর্তন ও একটি টয়লেট সংস্কারে ৭২ লাখ ৩১ হাজার ৫০২ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। রাজশাহীতে রেলের এ দফতরটি একটি ছোট টিনশেড অফিস। ২০১৭ সালের ৭ জুলাই এ কাজটির কার্যাদেশ দেওয়া হয় মোমিন ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। বিধিবদ্ধ দরপত্র আহ্বান ছাড়াই লোকাল টেন্ডার মেথড (এলটিএম) বা স্থানীয় টেন্ডার পদ্ধতিতে কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই মোমিন ট্রেডার্স কাজটি পায়। কাজ সম্পাদন দেখিয়ে ওই বছরের ১ অক্টোবর ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়।নথিপত্র বিশ্লেষণ করে আরও দেখা যায়, পশ্চিম রেলের প্রধান টেলিযোগাযোগ ও সংকেত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর দফতরের টয়লেট মেরামতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ টাকা। এ কাজটি করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তোফা কন্সট্রাকশন।

দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক মোর্শেদ আলম বলেন, রেলে দুর্নীতির পরিসর বিস্তৃত ও মাত্রা ভয়াবহ। এসব অনুসন্ধানে অনেক সময়ের প্রয়োজন। অনুসন্ধান পুরোদমে চলছে। সময় হলে সব জানানো হবে।

টয়লেট মেরামত যার সময়ে সেই সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বর্তমানে সৈয়দপুর সহকারী প্রকৌশলী (সেতু) পদে কর্মরত আছেন। রাজশাহীতে রেল ভবনে কর্মরত সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলী (এসএসইএ) বাবুল আকতার বলেন, ‘বিষয়টি আগের কর্মকর্তার আমলের। তাই এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ সাবেক প্রধান সিগন্যাল ও টেলিকমিউনিকেশন প্রকৌশলী অসীম তালুকদার বর্তমানে চট্টগ্রামে কর্মরত। তিনিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ বলেন, ‘মাত্র কিছুদিন আগে দায়িত্ব নিয়েছি। এরই মধ্যে দুদকের কর্মকর্তারা কয়েকবারই এসেছেন এবং তাদের চাহিদামতো নথিপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। দুর্নীতি কতটুকু, কী পরিমাণ হয়েছে, তা আমি এখন বলতে পারব না।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


More News Of This Category