রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :

করোনাভাইরাসের দোহায় দিয়ে ইচ্ছামত দাম বাড়াচ্ছে নিত্যপণ্যের

worksfare LTD
  • Update Time : ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৪৯ Time View

করোনাভাইরাস দেখা দিয়েছে চীনে আর প্রভাব পড়েছে ঢাকার নিত্যপণ্যের বাজারে। দাম বেড়েছে পেঁয়াজ, আদা, রসুন, চাল, ডাল, চিনি, তেল, মসলাসহ বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের। বাজারদর পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবেই গত এক সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১২টি পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে ভরা মওসুমেও সবজির দাম কাংখিত পর্যায়ে নেমে না আসায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন সাধারণ ভোক্তারা।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীরা চীনে দেখা দেয়া করোনাভাইরাসের অজুহাত দেখালেও বিশ্লেষকদের ধারণা, বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজিই মূল্য বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন রাজধানীর কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, করোনাভাইরাসের অজুহাতে চীন থেকে আমদানি করা হয় এমন সব পণ্যের দামই বেড়েছে। আবার এই সুযোগে বাড়ানো হয়েছে চীন থেকে আমদানি হয় না এমন পণ্যের দামও। খুচরা বাজারে গতকাল ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে আদা বিক্রি করতে দেখা যায়, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। একই অবস্থা রসুনের ক্ষেত্রেও। আমদানি করা চীনা রসুন এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। একই রসুন গতকাল ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। আগের সপ্তাহে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশী কাঁচা পেঁয়াজ গতকাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। যদিও বেশির ভাগ বিক্রেতা দোকানে প্রদর্শিত বোর্ডে পণ্যের দাম বাড়াননি।

টিসিবির তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া দেশী পেঁয়াজ গতকাল বিক্রি হয় ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। ৭০ থেকে ১০০ টাকা দামের আমদানি করা পেঁয়াজ গতকাল বিক্রি হয় ৭০ থেকে ১১০ টাকায়। গত সপ্তাহে ৮২ থেকে ৮৪ টাকা লিটার দরে বিক্রি হওয়া পামঅয়েল গতকাল বিক্রি হয় ৮৪ থেকে ৮৬ টাকা। ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরের চিনি গতকাল বিক্রি হয় ৬২ থেকে ৬৫ টাকা। ১০০ থেকে ১১০ টাকা লিটারদরের বোতলজাত সয়াবিন তেল এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০৫ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হয় বলে জানায় টিসিবি। সংস্থাটির মতে, এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি সাধারণ সরু চালের দাম ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ, পায়জাম চালের দাম দাম ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ, মোটা চালের দাম তিন দশমিক ০৮ শতাংশ, মাঝারি মানের চালের দাম ১১ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৪২ শতাংশ। এক মাসে ১৮ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ৪৭ শতাংশ বেড়েছে শুকনো মরিচের দাম। তুরস্কের ডাল এক বছরের ব্যবধানে ৩৪ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। এক বছর আগে এ দাম ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

এ দিকে রফতানিতে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তার (ভর্তুকি) ঘোষণায় বাজারে চালের দাম আরেক দফা বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা। বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, ধানের বাড়তি দামের অজুহাতে মিলমালিকরা এমনিতেই চালের দাম বাড়িয়ে চলেছেন। তার ওপর রফতানিতে ভর্তুকি দেয়া সিদ্ধান্তকে মওকা হিসেবে নিচ্ছেন বিক্রেতারা। এ সুযোগে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো বাড়াচ্ছেন। ফলস্বরূপ রাজধানী ঢাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারে লাগামছাড়া বাড়ছে অপরিহায্য এ খাদ্যপণ্যের দাম।
চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, রফতানিতে ভর্তুকি ঘোষণার সাথে সাথে মিলমালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। মিলগেটে চালের দাম বেশি, তাই বাড়তি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্য দিকে মিল মালিকরা বলছেন, ধানের সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি। ধানের দাম বাড়ায় চালের দামও বেড়েছে। যদিও পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন ধানের দাম কিছুটা বেশি হলেও মিল মালিকদের যুক্তি সঠিক নয়। কারণ তারা এরই মধ্যে ধানের বিশাল মজুদ গড়ে রেখেছেন। আগের কম দামে কেনা ও এখন কেনা ধানের দামের সমন্বয় করতে তাদের সিন্ডিকেট চালের দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন চাল বিক্রেতারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ গত বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে বলেছে, সরকার রফতানি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে দেশে উৎপাদিত ধান থেকে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত চাল রফতানির বিপরীতে ভর্তুকি দেবে। এ সুবিধা আলোচ্য সার্কুলার জারির তারিখ থেকে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাহাজীকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। চাল রফতানির ক্ষেত্রে নিট এফওবি মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে প্রক্রিয়াকারী-রফতানিকারক ভর্তুকি প্রাপ্য হবে।

সরকারি বাজেট বরাদ্দের বিপরীতে ছাড়কৃত তহবিল থেকে ভর্তুকির জন্য দাখিলকৃত আবেদনের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অর্থ প্রদান করা হবে। তবে বিশেষায়িত অঞ্চলে (ইপিজেড ও ইজেড) অবস্থিত প্রতিষ্ঠান থেকে রফতানির ক্ষেত্রে এবং সামগ্রীসহ অন্যান্য উপকরণের ওপর ডিউটি ড্র-ব্যাক ও শুল্ক বন্ড সুবিধা গ্রহণ করা হলে ভর্তুকি সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

এ দিকে ভরা মওসুমেও সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে না আসায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর ও শসা। ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। আর মুলা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে করলা ও ধুন্দুল। তবে কিছুটা বেশি দাম পেঁপের। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়শ। এক কেজির দাম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং একেকটি লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। পাকিস্তানি কক ২১০ থেকে ২৪০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, দেশী মুরগি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। এ ছাড়া গরুর গোশতের কেজি ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং খাসির গোশত ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশী হাঁসের ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, ফার্মের মুরগির ডিম ৯৫ থেকে ১০০ টাকা এবং দেশী মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।

মাছের বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা দরে। প্রতি কেজি কাচকি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা, মলা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ছোট পুঁটি ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা, দেশী চিংড়ি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১২০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, কৈ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, কাতল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


More News Of This Category