বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :

সিলেটে চেম্বারে বসছেন না ডাক্তাররা

J I
  • Update Time : ২৫ মার্চ, ২০২০
  • ৯ Time View

কে এম রায়হান, সিলেট প্রতিনিধি:করোনা আতঙ্কে কাঁপছে পুরো দেশ। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসকরাও। রোগী থেকে সংক্রমণের ভয়ে দেশের অন্যান্য জায়গার মতো সিলেটেও বন্ধ হয়ে গেছে বেশিভাগ ডাক্তারদের চেম্বার। আর যারা আছেন তারাও চেম্বার বন্ধ করার পথে। এমন বাস্তবতায় সাধারণ রোগ-বালাই নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষ। তবে প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট না থাকায় চেম্বার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গতকাল মঙ্গলবার সিলেট নগরীর ডাক্তারপাড়া খ্যাত স্টেডিয়াম মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। করোনা আতঙ্কে যখন পুরো দেশ কাঁপছে তখন বেশীরভাগ চেম্বারেই ডাক্তার নেই। কিছু ফার্মেসি আর ডায়াগনস্টিক সেন্টার তাদের দরজা খোলা রাখলেও ডাক্তার না থাকায় নেই রোগীদের দৌড়ঝাঁপ।
শুধু স্টেডিয়াম মার্কেটেই নয়, নগরীর বেশীভাগ ডায়াগনস্টিকেই ডাক্তাররা তাদের চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন। যারা আছেন তারাও বন্ধ করার পথে। এ অবস্থায় সাধারণ রোগ-বালাই নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন মানুষ। শারীরিক নানা অসুস্থতার কারণে কেউ কেউ ডাক্তারে আসলেও ডাক্তারদের অনুপস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। শহরের মানুষত আছেনই সেই সাথে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে দূর দূরান্ত থেকে আগত রোগীদের। অনেকেই সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ডাক্তার দেখাতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। আবার যেসব চেম্বার খোলা তারা ভয়ে সব ধরণের রোগী দেখছেনও না। এমতাবস্থায় প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট নিয়ে ডাক্তারদের চেম্বার খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সকলেই।
তবে করোনা সংক্রমণের এমন দুঃসময়ে ডাক্তারদেরকে মানুষের পাশে থাকার প্রয়োজন; এমনটি স্বীকার করলেও অনেকের চেম্বার বন্ধের কিছু যৌক্তিকতাও তুলে ধরছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের কথা, এখনো পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) না থাকায় অনেক ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে। সরকার থেকে এখন পিপিই এর কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। এমনকি বাজারেও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে তারা। কারণ কোন করোনা রোগী না বুঝে সরাসরি চিকিৎসকের কাছে চলে আসলে তারা আক্রান্ত হয়ে যাবে। সুতরাং ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তারা চেম্বার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
চিকিৎসকরা আরো বলেন, চিকিৎসক হিসেবে সেবা দেয়া তাদের দায়িত্ব হলেও তারা তাদের এবং পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়। কারণ যদি তারা আক্রান্ত হন তাহলে বাসায় যাওয়ার পর তাদের পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হয়ে যাবেন। এদিকে, ৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্তের খবরে ডাক্তারদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।


Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


More News Of This Category