শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ | সকাল ৭:১০

সৌন্দর্য, চিত্তাকর্ষক ও স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত তুরস্কের নীল মসজিদ

worksfare LTD
  • Update Time : রবিবার ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
  • ১৭০ Time View

তুরস্কের ইস্তাম্বুল কে ইউরোপে মসজিদের শহর বলা হয়। অটোম্যান স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত নীল মসজিদের প্রযুক্তিগত সৌন্দর্য সত্যিই দারুণ ও চিত্তাকর্ষক। এটি মুসলমানদের জন্য শুধুমাত্র একটি মসজিদ নয়, বরং এটি ওই অঞ্চলের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় স্থাপত্য-নিদর্শন। 

নামাজের সময় ছাড়া বাকি সময়টাতে সব ধর্মের লোক এখানে প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য কোনো টিকিটের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু সবাইকে মার্জিত পোশাক পড়ে সেখানে ঢুকতে হয়। ছেলেদের ফুলপ্যান্ট এবং মেয়েদের পা পর্যন্ত ঢাকা পোশাক পড়তে হয় এবং মেয়েদের মাথায় ওড়না বা স্কার্ফ থাকতে হয়। সেখানে ড্রেস কোর্ডের একটা সাইনবোর্ড দেওয়া আছে পরিস্কার ধারণা পাওয়ার জন্য। 

যেসব মহিলারা সাথে ওড়ানা বা স্কার্ফ রাখেন না বা ভুল করে যদি সাথে নাও আনেন ব্লু মসজিদ কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য ওড়না বা স্কার্ফ সরবারাহের  ব্যবস্থা রেখেছেন। এগুলো একদম বিনা টাকায় নেয়া যায়, পর্রিদর্শন শেষে এগুলো মসজিদের বাহিরে একটা নিদিষ্ট ঝুড়িতে জমা দিয়ে যেতে হয়। এই মসজিদে প্রবেশ করার জন্য সবসময় ভিড় লেগে থাকে এখানে। তুরস্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বলা হয় একে। এই মসজিদকে ইসলামী স্থ্যাপত্যের মাস্টার পিস বলা হয়ে থাকে। এই সুন্দর মসজিদের স্থপতি মুহাম্মদ আগা। 

এই মসজিদটি নির্মাণের সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাইজান্টাইন রাজপ্রাসাদ,উসমানী আমলের অনেক অভিজাত ব্যাক্তিদের নিজস্ব  প্রসাদ। মসজিদের মূল কক্ষে প্রবেশ করার আগে জুতা স্যান্ডেল খুলে পলিথিনে ভরে নিতে হয়। সেজন্য পলিব্যাগের ব্যবস্থা এখানে রয়েছে। মসজিদের যে অংশে নামাজ আদায় করা হয় সেখানে আলাদা করে রাখা হয়েছে, যারা নামাজ আদায় করবে শুধুমাত্র তারাই প্রবেশ করতে পারবে। মহিলাদের জন্য এখানে আলাদা নামাজের ব্যাবস্থা রয়েছে।

এই মসজিদের অভ্যন্তরের দেয়াল নীল রঙের টাইলস দিয়ে সুসজ্জিত বলে এই মসজিদটি নীল মসজিদ  ব্লু মস্ক নামে পরিচিত। এটি ১৬০৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৬১৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে উসমানীয় সম্রাজ্যের সুলতান আহমেদ  নির্মাণ করেন। মসজিদ কমপ্লেক্সে একটি মাদরাসা, একটি পান্থনিবাস এবং প্রতিষ্ঠাতার সমাধি অবস্থিত।  মসজিদটির মূল একটি গম্বুজের পাশাপাশি আটটি  গম্বুজ রয়েছে। মূল গম্বুজটির উচ্চতা ৪৩ মিটার। মসজিদের চার কোণে চারটি ও পেছনে আরো দুইটিসহ মোট ছয়টি সুউচ্চ মিনার রয়েছে। মসজিদের মিনার ও গম্বুজগুলো নীল-সাদা সীসার গাঁথুনি দ্বারা আচ্ছাদিত এবং মিনার ও গম্বুজের ওপরের ভাগ সোনার প্রলেপযুক্ত তামায় নকশাকৃত। 

মসজিদের ভেতরের দিকের ছাদ এবং দেয়াল জুড়ে ২০ হাজার অত্যন্ত উঁচু মানের নীল রঙের আকর্ষণীয় টাইলস বসানো হয়েছে। গম্বুজের ভেতরের কিছু অংশে নীল রং করা হয়েছে।

ভেতরের দেয়ালগুলোর উপরিভাগে বাহারি কারুকাজ ও নকশাচিত্রের পাশাপাশি কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের ক্যালিগ্রাফি রয়েছে। ক্যালিগ্রাফিগুলো তৈরি করেছেন, সেসময়ের সেরা ক্যালিগ্রাফার সাইয়িদ কাসিম গুবারি। যা এখন শিল্পকর্মে রুপ নিয়েছে। মসজিদের মেঝেতে উন্নতমানের দামি কার্পেট বিছানো।  নিয়মিত সেগুলো পাল্টানো ও পরিবর্তন করা হয়। আলোকসজ্জার জন্য ক্রিস্টাল এর বাতি বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়েছিলো সেইসময়। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ২৪০ ফুট ও প্রস্থ ২১৩ ফুট।  

চোখজুড়ানো স্থাপত্যশৈলী ও মসজিদ সংলগ্ন পার্কের সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে নীল মসজিদের আঙিনায় সবসময় লোকে লোকারণ্য থাকে।তুরস্ক ভ্রমণ করেছেন আর এই মসজিদ দেখেননি- এমন পর্যটকের সংখ্যা খুব কমই আছে।  ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ বেনেডিক্ট ২০০৬ সালে তুরস্ক সফরকালে মসজিদটি ঘুরে দেখেছেন। জানার চেষ্টা করেছেন এর সমৃদ্ধ ইতিহাস। 

Please Share This Post in Your Social Media


More News Of This Category