শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ | সকাল ৭:০১

অন্তত মালপত্রগুলো ক্যাম্পাসে রাখার সুযোগ দেওয়া হোক

প্রকাশক
  • Update Time : বুধবার ১৭ জুন, ২০২০
  • ৮৮ Time View

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ, জবি প্রতিনিধি : মহামারি করোনা সংকট কেড়ে নিয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন। বিশেষ করে আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশের অর্থনীতির চাকা থমকে গেছে। ফলে অন্যান্য মৌলিক অধিকারগুলোর পাশাপাশি, বাসস্থানের অধিকার নিয়েও তৈরি হয়েছে সংকট। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী,  বাড়িভাড়ার চাপ সামলাতে না পেরে অনেকে ঢাকা ছাড়ছেন আবার অনেকে খুঁজে নিচ্ছেন কম ভাড়ার বাসা। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দেশসেরা বিদ্যাপীঠগুলোর মধ্যে একটি। তবে  বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড়সমস্যাটি হলো আবাসন সংকট। সম্পূর্ণ অনাবাসিক হওয়ায় মেসবাড়িতেই শিক্ষাজীবন পার করতে হয় শিক্ষার্থীদের। করোনা সংকটে বিপদে তাই জবির প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী। 

সংকট নিরসনে বিভিন্নপক্ষ বিভিন্ন দাবি তুললেও মিলছে না উপযুক্ত সমাধান। তাই ম্যাস ছেড়ে দিচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থীই। এক্ষেত্রে অনেকে তাদের মালপত্র বন্ধু, আত্মীয় বাড়িতে রাখছেন। তবে বিপদে পড়ছেন যাদের মালপত্র রাখার জায়গা নাই। এক্ষেত্রে ক্যাম্পাসের মধ্যে যদি তাদের জিনিসপত্র রাখার ব্যবস্থা করা হয় আর তারা যদি ক্যাম্পাসে তাদের মালপত্র রাখে তবে সেক্ষেত্রে এটাকে আমি সময়োপযোগী উদ্যোগ মনে করি। ক্যাম্পাসে তাদের মালপত্র যতটা সেইফ অন্য কোথাও ততটা সেইফ বলে মনে হয় না। কেননা ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিকিউরিটি আছে। আর যারা ঢাকার বাইরে আছেন তাদের অনেকের রুমমেট,  বন্ধু, বড়ভাই ঢাকায় অবস্থান করছেন। এক্ষেত্রে সেইসব বন্ধু,শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহয়তায় মালপত্রগুলা ক্যাম্পাসে রাখার মতো ব্যাবস্থা করা হয় তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।তবে ঢালাওভাবে সবাইকে ক্যাম্পাসে রাখতে বলছি তেমনটা না, যাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বা মালমাল রাখা নিয়ে আপত্তি বা অসুবিধা নেই তারাই রাখতে পারেন। আপাতত যেহেতু অনেকে মেস ছেড়ে দিচ্ছে তাই আগে মালপত্র সংক্রান্ত সমস্যাটার জরুরী সমাধান দরকার। এক্ষেত্রে যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রদের মালপত্রগুলা ক্যাম্পাসে রাখার অনুমতি দেয় তবে সেই উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই। 

অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন যে মেসভাড়া সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের নাম করে প্রশাসন আমাদেরকে ক্যাম্পাসে মালপত্র রাখার অনুমতি দিয়ে শান্তনাস্বরূপ দমিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে না তো? সেক্ষেত্রে আমাদের হয়তো কিছুদিন অপেক্ষা করা প্রয়োজন কারণ মেসভাড়ার সমস্যায় জর্জরিত শিক্ষার্থীদের ফর্মগুলো ডিপার্টমেন্টে জমা দেয়ার শেষ তারিখ হচ্ছে ১৭ জুন। আর ফর্ম কালেক্ট করবার সাথে সাথেই যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে সেটা আশা করাও হয়তো আমাদের ভুল হবে। কারণ একটা কাজ প্রক্রিয়াধীন হতেও কিছু সময় প্রয়োজন। এক্ষেত্রে অনেকেই ফেসবুকে ক্যাম্পাসে মালপত্র রাখা সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছেন যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তির জন্ম দিয়ে কৃত্রিম সংকটের জন্ম দিতে পারে।

এক্ষেত্রে আমি তাদেরকে বলবো বিষয়গুলো একটু বিচারবিবেচনা করে পোস্ট দিতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত আপাতত মাঠ পর্যায়ে নেমে জবিয়ানদের যতটুকু সম্ভব সাহায্য করবার প্রচেষ্টা করতে। এক্ষেত্রে আমরা প্রকৃতপক্ষে জবিয়ানদের সমস্যাগুলো অনুধাবন করে যৌক্তিক দাবি উত্থাপন করতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। ফেসবুকের পোস্ট কোনোকিছুর সমাধান এনে দিবে না। সমাধান এনে দিবে মাঠ পর্যায়ে আমাদের কাজকর্মগুলো। এটা কেবল আমার মতামত। ভিন্নমতপোষণকারী কেউ যদি এর চেয়ে ভালো কোনো অভিমত প্রকাশ করতে পারেন তবে আমাদের উচিৎ হবে তার অভিমতকে সাধুবাদ জানানো।

নয়ন খান লিও পরিসংখ্যান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

Please Share This Post in Your Social Media


More News Of This Category