মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ | দুপুর ২:৩৩

শিরোনাম :
শ্রমিকদের কর্মসূচীতে বাঁধা-হামলা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি : ন্যাপ ” জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ” দিবসে শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা দুর্নীতি মামলায় কারাগারে রাজশাহীর গোদাগাড়ী কলেজ অধ্যক্ষ ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ভাষা সৈনিক অলি আহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফারিয়া’র কর্মবিরতি ও প্রতিবাদী মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত স্নাতক শেষ সেমিস্টারের পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে জবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন শিবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় বিজিবি সদস্যের স্ত্রী সহ নিহত ২ বাংলাদেশ পিপলস্ পার্টি-বিপিপি’র নতুন কার্যালয় উদ্বোধন গোলাপগঞ্জে ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ সরকার নির্ধারিত ৩০ টাকা কেজি দামে আলু পাচ্ছেননা রাজশাহীর ক্রেতারা

বিশ্বভ্রমণ নিয়ে আজমেরীর ভাবনা

J I
  • Update Time : বৃহস্পতিবার ২৫ জুন, ২০২০
  • ২৮৪ Time View

বাংলাদেশি নারী বিশ্বপর্যটক কাজী আসমা আজমেরী। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে তিনি এ পর্যন্ত ১১৫ টির ও বেশি দেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি তার বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনা, ভ্রমণের বিভিন্ন সময়ের অভিজ্ঞতার দিকগুলো নিয়ে কথা বলেছেন ‘দৈনিক আমাদের বাংলাদেশ’ এর সাথে আর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন প্রধান সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম জুয়েল।

দৈনিক আমাদের বাংলাদেশ : আপনার শৈশব এবং বেড়ে উঠা নিয়ে কিছু বলুন ?

কাজী আসমা আজমেরী : আমার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম চিওড়া কাজী বাড়ি হলেও আমার জন্মস্থান খুলনায়। খুলনার ইসলামপুর রোডে জন্ম হলে পরে ৮৫ নং রায়পাড়া বেড়ে উঠা পাড়ার স্কুল নবম শ্রেণীতে হাতে খড়ি থাকলেও এসএসসি পাস করেছি খুলনা ইকবাল নগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে যেটা আমার আম্মু ও লেথাপড়া করেছেন। আমার পরে আমার চারটি ভাই মারা গেলে ছোটবেলা থেকে আমি একাই বেড়ে উঠেছি। আমার বাবা কাজী গোলাম কিবরিয়া প্রথমে কুমিল্লায় খাদি করে কাপড়ের ব্যবসা, পরবর্তীতে শিপিং লাইনে চলে যায়। আমার মা পেশায় একজন গৃহিণী ছিলেন।

দৈনিক আমাদের বাংলাদেশ : কবে থেকে ভ্রমণ করার পরিকল্পনা মাথায় এলো?

কাজী আসমা আজমেরী : ছোটবেলা থেকেই পরিবারের কেউ যখন বিদেশে বেড়াতে যেত, তখন থেকেই চিন্তা হতো সেই দেশে যাবো। সবচেয়ে বেশি আম্মুর কাছে গল্প শুনে শুনে আরও স্বপ্ন দেখতাম। কখনো ইবনে বতুতা, হ্যারি পর্টার, মার্কো পোলো, শার্লক হোমস ।

ছোটবেলায় ইচ্ছা ছিল টোকাই হব, তাঁদের মতো স্বাধীন জীবন যাপন করবো, কিন্তু বড় হওয়ার পরে যাযাবর জীবন বেছে নিলাম।

দৈনিক আমাদের বাংলাদেশ : ভ্রমণের পথে পরিকল্পনা অনুযায়ী কখন প্রথম পা বাড়ালেন? কাজী আসমা আজমেরী : ২০০৯ সাল থেকেই মাথায় এলো বন্ধুর মায়ের টিটকারি শুনে। মেয়েরা ছেলেদের মত বিশ্ব ভ্রমণ করতে পারবেনা এই কথা। তারপরে নিজের গহনা বিক্রি করে শুরু করে দিলাম যাত্রা । আর নেপালে যাওয়ার পরে আরো বেশি উৎসাহ পেলাম বিদেশি travelerদের সাথে পরিচিত হওয়ার পরে।

দৈনিক আমাদের বাংলাদেশ : এই পর্যন্ত কতটি দেশ বা শহর ভ্রমণ করেছেন?

কাজী আসমা আজমেরী :আজকে পর্যন্ত ১১৫ টি দেশ ও ১২৩৭ শহরে বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভ্রমণ করতে পেরেছি।

দৈনিক আমাদের বাংলাদেশ : আপনার ভ্রমণে কে বেশি অনুপ্রেরণা জোগায়?

কাজী আসমা আজমেরী : আমার ভ্রমণের সত্যি কথা বলতে কেউ কখনো উৎসাহ দেয় নি, প্রিয় স্বজন , পরিবার বন্ধুবান্ধব সবাই বিরোধিতা করতো। শুধুমাত্র ট্রাভেল এজেন্সির মনিরুজ্জামান দুলু ভাই অনেক উৎসাহ দিত। তবে উৎসাহ ছিল ছোটবেলার সেই গল্পের বই, আর পরিচিত নতুন নতুন ভ্রমণকারী বন্ধুরা।

দৈনিক আমাদের বাংলাদেশ : একজন বিশ্বপর্যটক হিসেবে নিজের দেশকে নিয়ে কোন পরিকল্পনা আছে কি?

কাজী আসমা আজমেরী:বাংলাদেশি পাসপোর্টে যাতে সবাই সাধারন মানুষেরা ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য এই পাসপোর্টটিকে ব্যান্ডিং করার চেষ্টা করছি। সেজন্য যেসব বাংলাদেশীরা অবৈধভাবে বিদেশে ভ্রমণ করে তাদেরকে নিরুৎসাহিত করা। এবং নতুন প্রজন্মকে ভ্রমণে উৎসাহিত করার কাজ করছি।’travelling is fun way to learn’এই শ্লোগান নিয়ে পৃথিবীর এক লক্ষ নতুন প্রজন্ম থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীদের মাঝে বার্তা পৌঁছে দেয়ার কাজ করছি।শুধুমাত্র নিজেই প্রমাণ করতে পছন্দ করি না মানুষকে উৎসাহ দেওয়া আমার কাজ।

দৈনিক আমাদের বাংলাদেশ : ভ্রমণ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

কাজী আসমা আজমেরী: নতুন প্রজন্ম,তরুণ সমাজকে ভ্রমণে উৎসাহিত করার কাজ করছি।”travelling is fun way to learn’এই শ্লোগান নিয়ে পৃথিবীর এক লক্ষ নতুন প্রজন্ম থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীদের মাঝে বার্তা পৌঁছে দেয়ার কাজ করছি গত দু’বছর যাবৎ।শুধুমাত্র নিজেই ভ্রমণ করতে পছন্দ করি না , অন্যকে ভ্রমণে উৎসাহ করি। ভবিষ্যতে অনুপ্রেরণামূলক যুবসমাজ নিয়ে ব্যাপক ভাবে কাজ করার পরিকল্পনা করছি। আর স্বপ্ন আছে একটি চক্ষু ,ডেন্টিস্ট হাসপাতাল তৈরি করার।

দৈনিক আমাদের বাংলাদেশ : পাঠককে ভ্রমণের উপকারিতা সম্পর্কে কিছু বলুন

কাজী আসমা আজমেরী:আমার মতে”Travelling is fun way to learn”ট্রাভেলিং এর মাধ্যমে আপনি তিনটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিখতে পারছেন যা আপনার জীবনকে পরিবর্তন করার জন্য অনেক প্রয়োজনীয়। ১. ভাষা জ্ঞান । স্পেশালি আমরা ইংলিশ সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে পারি, শুধুমাত্র ট্রাভেলিং এর মাধ্যমে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ভ্রমণ করতে হলে ইংলিশে কথা বলতে হয় ,তাতে ইংলিশে দক্ষতা বাড়ে। ২. সময় সচেতনতা বা Punctuality। একজন ভ্রমণকারী যখন ভিন্ন দেশে যায় তাকে সময় মত সকালে উঠে নাস্তা করা, সূর্য ডোবার আগে পর্যটন স্থান গুলো দেখা। কোন জায়গায় কতটা টাইম এর ভিতর পৌঁছানো যাবে এবং সেখানে দ্রুত পৌঁছানোয় টাইম এর সাথে সাথে কাজ করা। যা তাকে পাংচুয়াল হতে সাহায্য করে। কারণ পাংচুয়াল নাহলে তাকে আরো একদিনের হোটেল ভাড়া গুনতে হয়, না হলে তিনি দেখতে পাবেন না সুন্দর জায়গা গুলো, সেজন্য মানুষ সহজেই সময়কে মূল্য দিয়ে কাজ করে। ৩. সংগঠিত ব্যবস্থাপনা বা Organised management, ভ্রমণের মাধ্যমে তাকে অরগানাইজ করতে হচ্ছে হোটেল, কিভাবে বাসে করে হোটেল থেকে পর্যটন স্পটগুলোতে পৌছাবে, এক শহর থেকে অন্য শহরে যাবে, কোথায় খাবে, কি কি দেখতে যাবে তালিকা তৈরি করে সেখানে যাওয়া। এসব খুব আনন্দের সাথে করে একজন স্টুডেন্ট তরুণ-তরুণী সহজেই অর্গানাইজড হওয়ার দক্ষতা যোগায় ।

ভ্রমণ মানুষকে উদার করে, দয়ালু বানায়, সবকিছুকে গ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করে সর্বোপরি বলা যায় যে, ভ্রমণের মাধ্যমে একজন স্টুডেন্ট, তরুণ এবং একজন নারী তিনি তার কনফিডেন্স ডেভলপ করতে পারেন। একা ভ্রমণকারীরা ইন্ডিপেন্ডেন্ট হতে পারেন। ভ্রমণ নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখে, বন্ধুত্ব বৃদ্ধি পায় বহিঃবিশ্বের সাথে, যা তাকে জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করে। শুধুমাত্র বইয়ে মানুষ পৃথিবীর একপিঠ পড়তে পারে, ভ্রমণের মাধ্যমে তিনি জানতে পারে পৃথিবীর দিক সম্পর্কে। যা সত্যিই দরকার আছে আমাদের মতো ম্যাটেরিয়ালিস্টিক মানুষ ব্র সত্তিকারের মূল্যবোধের মানুষ হওয়ার।

Please Share This Post in Your Social Media


More News Of This Category