মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০ | রাত ৪:০৮

কৈনপুরা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে জিম্মি শিক্ষার্থী- অভিভাবকরা

প্রকাশক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার ২ জুলাই, ২০২০
  • ৬৭ Time View

জাবেদুল ইসলাম, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : আনোয়ারা উপজেলার কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু চন্দ্র দেবনাথের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী- অভিভাবকরা। ওই স্কুলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছে আতঙ্কের নাম প্রধান শিক্ষক। তার মানসিক নিপীড়নে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। একের পর এক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন নিয়ে ছিনি-মিনি খেললেও এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নীরব ভূমিকায় রয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে জেএসসি পরীক্ষার রেজিট্রেশন করতে না পেরে গত সোমবার রাতে আত্মহত্যা করে দুর্জয় দাশ নামে এক ছাত্র। নিহত দুর্জয় কৈনপুরা গ্রামের মিলন দাশে ছেলে। দুর্জয়ের অভিভাবক জানায়, শিক্ষকদের ভুলের মাসুল দিতে হল আমার ছেলেকে। একই সার্টিফিকেট ও জন্মনিবন্ধন দিয়ে আমার ছেলেকে ৬ষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি করায়। তখন কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু কয়েকদিন আগে জেএসসি পরীক্ষার রেজিট্রেশন করতে গেলে প্রধান শিক্ষক জানায় জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স দুই বছর বেশি। তাই রেজিস্ট্রেশন করতে হলে জন্মনিবন্ধন সংশোধন করে আনতে হবে।

জন্মনিবন্ধন সংশোধন করতে গেলে তথ্য সেবাকেন্দ্র থেকে বলা হয় স্কুল থেকে প্রত্যয়ন পত্র ছাড়া জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করা যাবে না। বয়স সংশোধনী একটা প্রত্যায়নপত্রের জন্য কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনেকবার গেছি। প্রধান শিক্ষকের কাছে হাতজোড় করে অনেক কাকুতি মিনতি করেও তার মন গলাতে পারি উল্টো প্রধান শিক্ষক আমাদের সাথে দুব্যবহার করে। তখন প্রধান শিক্ষককে বললাম রেজিট্রেশন করতে না পারলে আমার ছেলে পরীক্ষা দিতে পারবে না তখন প্রত্যুত্তরে প্রধান শিক্ষক বলে এবার দিতে না পারলে আগামীবার দিবে। এ দায়ভার আমরা নিতে পারবো না। এ জন্মনিবন্ধন সংশোধন করার জন্য চেয়ারম্যান, শিক্ষা অফিসারসহ অনেকের দ্বারে দ্বারে গেলে বিষয়টি সমাধান করতে পারেনি। ফলে জন্মনিবন্ধন সংশোধন ও রেজিট্রেশন করতে না পরে রাগে ক্ষোভে দুর্জয় দাশ আত্মহত্যা করে।

এভাবে দুর্জয় দাশের মত অনেক শিক্ষার্থী স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু চন্দ্র দেবনাথের কাছে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিষয়ে হয়রানি শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী মহরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মোঃ মহিউদ্দিন জানান, গতবছর আমার এক ছোট বোন এসএসসি পরীক্ষার রেজিট্রেশন করতে গেলে প্রধান শিক্ষক বলে বয়স বেশি হয়ে গেছে তাই জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে আনতে হবে। জন্মনিবন্ধন সংশোধন করতে ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র গেলে স্কুল থেকে প্রত্যয়নপত্র আনতে বলে। প্রত্যয়নপত্রের জন্য প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি শিক্ষা বোর্ড কে দায়ী করে।

সাথে সাথে স্কুল কমিটির সভাপতির সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তিনি প্রধান শিক্ষককে বলে বিষয়টি সমাধান করে দিবে বলে আশ্বাস দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। পরে প্রধান শিক্ষক শিক্ষা বোর্ডের অজুহাত দেখিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবে না বলে আমাকে সাফ জানিয়ে দেয়। ফলে আমার ছোট বোনটি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করত পারেনি। তাহলে এই দায়ভার কার?
একই গ্রামের ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান জানান, গতবছর আমার ছোট ভাই এসএসসি পরীক্ষায় গণিতে ফেল করে। পুনরায় এ বিষয়ে আবার পরীক্ষা দেয়ার জন্য স্কুলে রেজিট্রেশন করতে গেলে আমাকে তিনদিন ঘুরিয়ে প্রধান শিক্ষক রেজিট্রেশন করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আমি আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বিদ্যালয় কমিটির সভাপতিকে ফোন দিয়ে বিষয়টি সমাধান করে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কার্যকলাপ দেখলে মনে হয় আগে তিনি কোনদিন ছাত্র ছিলেন না। আমরাও অনেক ভোগান্তির শিকার হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটিকে জানালেও কোন প্রতিকার পায়নি। এভাবে প্রতিনিয়ত প্রধান শিক্ষকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। দুর্জয় দাশের মত আর কোন শিক্ষার্থীকে যেন হারাতে না হয় সেজন্য বিষয়টিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমাধান করে দেওয়ার জন্য এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও কৈনপুরা গ্রামের বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু চন্দ্র দেবনাথ জানান, বয়সের ব্যাপারে শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা আছে। ওই শিক্ষার্থীর বয়স জন্ম নিবন্ধন ও পিএসসি সনদে বেশি হওয়ায় তাকে সংশোধন করে আনতে বলেছি। বেশি বয়সে কেন ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করালেন এই প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, তখন আমরা এটা খেয়াল করিনি। 

বিষয়টি জানতে কৈনপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি রঘুপতি সেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলে মোবাইলে সংযোগ না পাওয়ায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ফেরদৌস হোসেন বলেন, ছাত্রটির আত্মহত্যার খবর দেখে আমি প্রধান শিক্ষককে ফোন দিয়ে বিষয়টা জানতে চেয়েছিলাম। তখন প্রধান শিক্ষক আমাকে বললেন উনি প্রত্যয়ন পত্র দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু তারা নেওয়ার জন্য আসেনি। স্কুল থেকে কোন শিক্ষার্থীকে প্রত্যায়নপত্র দিতে কোন সমস্যা আছে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষা অফিসার বলেন, প্রত্যয়নপত্র দিতে কোন সমস্যা নেই।

Please Share This Post in Your Social Media


More News Of This Category